Wednesday, December 18, 2013

আদার রসের উপকারিতা


১. আদার রস খেলে আহারে রুচি আসে এবং ক্ষুধা বাড়ে ।
২. আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে কাশি সারে ।
৩. আদা মল পরিষ্কার করে ।
৪. আদার রসে পেটব্যথা কমে ।
৫. আদা পাকস্থলী ও লিভারের শক্তি বাড়ায় ।
৬. আদা স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ।
৭. আদার রস শরীর শীতল করে ।
৮. আদা রক্তশূন্যতা দূর করে ।
 




নখের হলদে ভাব

নখের হলদে ভাব দূর করতে নিচের যেকোনো একটি নিয়মিত করুন-

* নখগুলোকে কিছুক্ষণের জন্য ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখুন ।
* লেবুর রসে ১০ মিনিট নখ ভিজিয়ে রাখুন ।
* টুথপেস্ট নখের ওপর দিয়ে ১০ মিনিট পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন ।
* হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ও বেকিংপাউডার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নখের ওপর লাগালে নখ সজীব থাকে । 

স্লিম থাকার উপায়


* পরিমাণে অল্প করে দিনে ছয়বার খান।
* রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন।
* রাতে খাওয়ার পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট পায়চারি করুন।
* বাড়িতে মিষ্টি, চিজ, চানাচুর, চকোলেট ইত্যাদি বেশি রাখবেন না। হাতের কাছে থাকলে খেতে ইচ্ছে করবে।
* দুধ, ছানা ও টকদই খান প্রচুর পরিমাণে। তবে এগুলো ফ্যাট ফ্রি হতে হবে।
* খেতে বসার আগেই প্ল্যান করে নিন কী খাবেন আর কতটুকু খাবেন। পরিকল্পনা থাকলে কম খাবেন। আর না থাকলে বেশি ক্যালরি খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকবে।
* লো-ক্যালরিযুক্ত খাবার মানেই যে সিদ্ধ, বিস্বাদ খাবার তা কিন্তু নয়। সুস্বাদু করে রান্নার পদ্ধতি জেনে নিন।
* দোকান থেকে কিনে খাবার প্রবণতা কমান।
* খাবার আস্তে আস্তে চিবিয়ে খাবেন। এতে মুখের ভেতরের এনজাইম বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা কম খাবারে পেট ভরাতে সাহায্য করে।
* দিনে যেকোনো একটা ফল বা তরকারি কাঁচা খাওয়ার চেষ্টা করুন।
* প্রতিদিন একই ফল, খাবার, তরকারি খাবেন না। সব কিছু মিশিয়ে খেলে পুষ্টির পরিমাণ ঠিক থাকবে। খেতে একঘেয়েও লাগবে না।
* কখনো টিভি দেখতে দেখতে খাবার খাবেন না। বেশি খেয়ে ফেলবেন।
* গাড়িতে যেতে যেতে, দাঁড়িয়ে বা শুয়ে খাবেন না। এক জায়গায় বসে রিলাঙ্ করে আনন্দ নিয়ে খান।
* নানা রকম খাবার মিলিয়ে খান টক, ঝাল, মিষ্টি, নোনতা, তেতো- সব ধরনের খাবারের স্বাদ মিলেমিশে থাকে। আমাদের ক্ষুধা বেশি লাগার কারণ আমরা এসব খাবারের স্বাদ নেই না। কেবল নোনতা, ঝাল, মিষ্টি খাই। খাদ্য তালিকায় পাঁচটি মিশ্রণ থাকলে খিদে দেরিতে পাবে। ফলে খাওয়া কম হবে।
 

ওজন কমাতে ডায়েট চার্ট


সকাল: ৭:৩০
হালকা গরম পানিতে ১ চামচ মধু এবং ১টুকরো লেবুর রস দিয়ে খান।

সকালের নাস্তা - ৮.৩০ :
রুটি-২টি, সবজি, দুধ চিনি ছাড়া চা বা কফি এক কাপ।rupcare_marriage

সকাল - ১১ টা:
গ্রিন টি ১ কাপ, ১ পিস বিস্কুট।

দুপুর - ১২ টা:
শশা বা গাজরের জুস-১ গ্লাস

দুপুরের খাবার:
ভাত ১ কাপ, সবজি, মাছ ১ টুকরো, সালাদ, ডাল।

বিকেল ৪ টা:
কলা, কমলা, আপেল, আম, আমড়া যে কোনো ১টি

বিকাল - ৫:৩০
গ্রিন টি-১ কাপ, পাউরুটি ১ পিস অথবা বিস্কুট ২ পিস।
 

রাতের খাবার - ৮:৩০ :
ভাত ১ কাপ বা রুটি ৩ টি সঙ্গে শাক বা সবজি আর মাছ।




আমাদের অনেকেরই অভ্যেস হচ্ছে রাতে খাবার খাওয়ার পরও টিভি দেখতে দেখতে বাড়তি খাবার খেতে পছন্দ করি। তবে ওজন কমাতে চাইলে এই অভ্যেস বাদ দিতে হবে।

নিয়মিত এই খাবারের রুটিন মেনে চললে আর সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ঝরঝরে ফিগার পেতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।







 

Tuesday, December 17, 2013

আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা

নীচের খবর গুলো মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন। বুঝতে পারবেন কাদের হাতে ঘটছে বাসে অগ্নি সংযোগ, কক্টেল নিক্ষেপ এবং নিরিহ মানুষ হত্যা। পড়ার সময় বাসের নামটি খেয়াল করুনঃ

*** ১৩ ডিসেম্বর, ২০১১- একটি বাস সার্ভিসের চালক-হেলপারের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে ইডেন কলেজের ছাত্রীরা দেড় ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী জানান, সকালে একটি বাসের শ্রমিকরা ছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এ জন্য ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে। আমি তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছি। পরিবহন সার্ভিসের নাম ছিল -#বিহঙ্গ#-

*** ৩ মার্চ, ২০১৩ – সেদিন জামাতের হরতাল ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে শেওড়াপাড়ায় ১টি ও মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় আল হেলাল হাসপাতালের সামনে অপর একটি ককটেলবিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দবির উদ্দিন বলেন, সদরঘাট থেকে মিরপুরগামী --#বিহঙ্গ#-- পরিবহনের বাস থেকে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

*** ৬ জুলাই, ২০১৩ - খালেদা জিয়ার সরকারি গাড়িকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংসদ ভবন এলাকায় কর্তব্যরত ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাক্ট আর্মস সেলিম খান। -#বিহঙ্গ#- পরিবহনের বাস ছিল এটি। *** ২৮ নভেম্বর, ২০১৩ – ছিল বিএনপির অবরোধ। সেদিন শাহবাগে বাসে আগুন দেয়া হয়। সাংবাদিক, আইনজীবীসহ দগ্ধ হন ১৮ জন। পরের দিন দগ্ধ যুবক নাহিদ মোড়ল (২২) মারা যান। এইখানেও সেই একই -#বিহঙ্গ#- পরিবহনের বাস। এখন প্রশ্ন হলো এই বিহঙ্গ পরিবহনের নাম কাকতালীয় ভাবে বারে বারে আসছে কেন? কেই বা এর মালিক? খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই বিহঙ্গ পরিবহনের মালিক হচ্ছেন পংকজ দেবনাথ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, তাকে আওয়ামী লীগ বরিশাল-০৪ আসন থেকে অবৈধ প্রহসনের নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

বাসের নামটি আর মালিকের নাম ও পরিচয় মনে রাখুন। আপনাকে শারলক হোমস হতে হবে না। বুঝতে পারবেন কারা, কেন, কিভাবে দেশে নৈরাজ্যের জন্ম দিচ্ছে।

এর আগে ঢাকা শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির বাসার সামনে কক্টেল ফাটানো হয়েছে। হামলাকারিদের কাউকে পুলিশ ধরেছে বলে শুনা যায়নি। কিন্তু বিএনপির বয়স্ক ৫ নেতাকে জেলে নিয়েছে পুলিশ। তারা এখনো কক্টেল মামলায় জেলেই আছেন।

নেতাদের জেলে ঢুকানোর পড়ে শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ ঘোষণা দিয়েছিলেন আরও নেতা গ্রেপ্তার হবে। উনি দাবী করেছিলেন সেই ৫ নেতাদের গ্রেপ্তারের পরেই কক্টেল হামলা নাকি কমে গেছে!!

জার্মানির রাষ্ট্রদূত মাত্র ক'দিন আগে বিএনপির সেই ৫ নেতাকে মুক্তি দেবার সরাসরি আহবান জানিয়েছেন। আহ্বান জানানোর দিন রাত্রে খোদ জার্মানির রাষ্ট্রদুতের বাসাতেই কক্টেল হামলা হয়েছে!!

উপরের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করুন। ঠাণ্ডা মাথায় পড়লে এটুক নিশ্চিত হবেন যে, দেশ বিরোধী শক্তিই ঢাকা শহরের বাসে আগুন দিচ্ছে, কক্টেল ফাটাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য একটাই। বিরোধী দলগুলোর সফল আন্দোলনকে মানুষের মনে বিতর্কিত করে তোলা। বিএনপির ন্যায্য দাবীর প্রতি সমর্থন যে কেউ দিলে, সে বিদেশী হলেও তাকে ভয় দেখানো। আর এভাবেই তারা তাদের তাবেদার হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রাখার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চাইছে।

অশুভ শক্তির কালো হাত ভেঙ্গে দিন। দেশের বিপন্ন হয়ে ওঠা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসুন।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!
শেখ হাসিনা বনাম সমগ্র জাতির লড়াই
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনদিন জাতি এমন অবস্থায় দাঁড়ায়নি। কোনদিন জাতি এভাবে বিভক্ত হয়নি। আজ পুরো দেশ, পুরো জাতির সাথে একজন ব্যাক্তির লড়াই। 
"একজন ব্যাক্তির জন্যে, কোন রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা মতবিরোধের জন্যে নয়। একজন ব্যাক্তি ক্ষমতায় থাকবেন এইজন্যে দেশের এই দুরবস্থা।

... এর আগে যতগুলো সরকার ছিল এমনকি শেখ হাসিনার আগের সরকারের সময়ও জাতি এভাবে বিভক্ত হয়নি। আজকে জাতি বিভক্ত হয়নি। ব্যাক্তি বনাম জাতি- এমন হয়ে গেছে।"

- এবিএম মূসা
" কয়েকটা গালি দিল, হেফাজতকর্মী বুঝে কয়েকটা গালি দিল। এরপর কতক্ষন দাঁড় করায়া রাখে। এরপর কেউ বলতেছে জবাই কর, কেউ বলতেছে গুলি কর। কতক্ষন পরে একজন বললো গুলি করে মাইরা ফেল এইটাই ভালো হবে। এরপর যখন গুলি করবে আমি মাথা নিচু করতে নিতেই আমার কপালে গুলি লেগে মগজ পর্যন্ত গর্ত হয়ে গেল। "

এ. আর. (নামের সংক্ষিপ্ত রূপ)
শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞে গুলিতে অন্ধ হয়ে যাওয়া ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা  ২০১৩ সালের এক আগস্ট, Blood on the Streets : The Use of Excessive Force During Bangladesh Protests নামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তারা সর্বমোট পঁচানব্বইজনের সাক্ষাৎকার নেয়। এরা কেউ পুলিশের গুলি খেয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন, কিংবা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, কেউ পুলিশের গুলিতে নিহতের স্বজন, কেউ পুরো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, কিংবা মানবাধিকার কর্মী। এদের মধ্যে চারজন পাঁচই মে শাপলা চত্বরের অভিযানে সারাজীবনের জন্যে অন্ধ হয়ে যায়।

এখানে -এর সৌজন্যে পাঁচ মের পুলিশি হামলার শিকার তিনজনের হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে দেয়া বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ দেয়া হলো।

কোথায় আজ গণতন্ত্র  ????????





“বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্রের নাম-নিশানা মুছে দিয়ে চরম স্বৈরাচারী এক ফ্যাসিবাদী দু:শাসন জগদ্দল পাথরের মতো জাতির ওপর চেপে বসেছে। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। এর ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আজ উত্থাপিত হচ্ছে গুরুতর প্রশ্ন।

“সংবাদ মাধ্যম আজ শৃঙ্খলিত। সংবাদ, টকশো, মতামত নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বেআইনীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারী সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল। চলছে সরকারের পক্ষে প্রায় একতরফা প্রচারণা। বিরোধী দল ও জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের এবং প্রতিবাদ জানাবার সকল সুযোগ ও পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

“বিএনপি সহ প্রায় সকল বিরোধী দলের সদর দফতর এবং কার্যালয়গুলো আইন শৃক্সখলা বাহিনী দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। মিথ্যা অভিযোগে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতাদের আটক করে রাখা হয়েছে। সারাদেশে নেতা-কর্মীদের ওপর চলছে হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়ন। সরকার নিজেই সারাদেশে এক চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

“প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আজ দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। জনজীবনের শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করার বদলে বিরোধী দল ও জনগণের প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও আন্দোলন দমনেই তাদেরকে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

“দেশের শিল্প-বানিজ্য-অর্থনীতি আজ স্থবির। সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ও নাশকতায় বিকাশমান তৈরী পোশাক খাত আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। সরকারের একগুঁয়েমি এবং ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার উদগ্র বাসনার কারণেই আজ সর্বক্ষেত্রে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

“বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করা হলেও সরকারী দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় রাজপথে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে। কাজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, পৈশাচিক হত্যা, নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের যেসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, তার দায় পুরোপুরি সরকারকেই নিতে হবে।

“আমরা বারবার বলেছি, আজ আবারো বলছি, আমাদের আন্দোলন ও কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। নিরপরাধ কোনো সাধারণ নাগরিক কোনক্রমেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। জনগণই আমাদের শক্তির উৎস। তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে হবে।

“বাংলাদেশের  মানুষ কত বিপুলভাবে আমাদের সমর্থনে রয়েছেন, তা আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বারবার প্রমানিত হয়েছে। এখনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিলে ও নিষ্ঠুর নির্যাতন বন্ধ করলে মানুষের যে ঢল রাজপথে নামবে তা সৃষ্টি করবে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। সরকার তা জানে এবং তারা একথাও জানে যে, সকল দলের অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দেশবাসী তাদেরকে কিভাবে প্রত্যাখান করবে। সে কারণেই তারা সমঝোতার পথ এড়িয়ে সংঘাত ও বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।

“সকল দলকে বাইরে রেখে একতরফা ও প্রতিদ্বন্দিতাহীন এক নির্বাচনী প্রহসনের দিকে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করছে তারা। মহাজোটের শরীক এরশাদের জাতীয় পার্টিও এই তথাকথিত নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দিতা থেকে ইতোমধ্যেই সরে দাঁড়ানোর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটিই আজ এক হাস্যকর প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

“নির্বাচন মানেই হ্চ্ছ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতা। যে নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দিতা নেই, সেটা কোনো নির্বাচন নয়। অথচ সংবিধানের বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনীর দোহাই দিয়ে সরকার সেই প্রহসনের মাধ্যমেই তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। আর এর প্রতিবাদে সারাদেশে মানুষ আন্দোলন করছে। তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে গুলী করে মারা হচ্ছে। প্রতিদিন ক্ষমতার লোভে রঞ্জিত হচ্ছে সরকারের হাত। সরকারের পৈশাচিক দমন-পীড়ন এবং এর বিরুদ্ধে জনগণের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে জনজীবন আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। অচলাবস্থার কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সরকার নির্বিকার ও অনড়। দেশের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সকলে অনুভব করলেও সরকার বলছে, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এটা কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক মনোভাব হতে পারেনা।







অভূতপূর্ব, হাস্যকর এবং প্রহসনমূলক এক নির্বাচনের পথে আওয়ামী বাকশালী গোষ্ঠী।

নির্বাচনের আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছে ১৫০ জন সাংসদ, সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।  এদের মধ্যে আওয়ামী বাকশালীদের ১২৭ জন, জাতীয় পার্টির ১৮ জন, জাসদের ০৩ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ০২ জন এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে ০১জন করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে।

ইতিহাসে এই সরকার একাত্তরের রাজাকার আব্দুল মালেকের অধীনের সেই সরকারের সাথে তুলনীয় হবে।


বিরোধী দলের নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিবৃতি (১২-১২-২০১৩)

December 13, 2013 at 1:35am
“দেশ-জাতি আজ সর্বগ্রাসী এক গভীর সংকটে নিপতিত। সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সামাজিক  সংগঠন, সংবাদ মাধ্যম, সিভিল সমাজ, সচেতন ও গণতন্ত্রপ্রিয় দেশবাসী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, এমনকি জাতিসংঘ পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে এমন আশঙ্কাই ব্যক্ত করে আসছিল। আমরা সকলেই এই সংকটের একটা শান্তিপূর্ণ ফয়সালার জন্য বারবার আহবান জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবর সেই আহবানকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভাষায় তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা আলোচনা ও যুক্তির পথ বেছে নিতে রাজী হয়নি। শান্তি ও সমঝোতাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। বরংতারা কথা বলেছে অস্ত্রের ভাষায়। তারা রাষ্ট্রীয় ও পেশী শক্তির মাধ্যমেই সকল ভিন্নমত দমিয়ে দিতে ও প্রাধান্য বিস্তার করতে চেয়েছে।

“দেশবাসী জানেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা ধৈর্য, সংযম ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আমাদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য আমরা যা কিছু সম্ভব তার সবই করেছি এবং সকল ফোরামেই গিয়েছি। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ আমাদের বক্তব্য ও দাবির প্রতি সমর্থন, একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় সরকার জনমতকে গ্রাহ্য করেনি। তারা আমাদের শান্তির আহবানকে দুর্বলতা বলে চিহ্নিত করেছে। তারা রাজপথে আমাদেরকে সংঘাতের প্রতিযোগিতায় আহবান জানিয়েছে এবং নির্মূলের হুমকি দিয়েছে।

“বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা, ঔদার্য, সহনশীলতা, সংযম, সমঝোতা ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে বিরাজমান সংকট নিরসনের আহবান জানাবার পরেও সরকার তার জবাব দিয়েছে দমন-পীড়ন ও বলপ্রয়োগের নিষ্ঠুর পথে। ক্ষমতাসীনদের এই অনড় মনোভাব, এই ফ্যাসিবাদী আচরণ, এই নির্মম দমননীতি এবং জনগণের সমর্থনও অনুমোদন ছাড়াই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার উদগ্র আকাঙ্খাই আজ দেশকে এক চরম নৈরাজ্যকর ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিক্ষেপ করেছে। সরকারের চরম হঠকারিতার কারণেই আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতেও ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে গেছে।

“আমি এ প্রসঙ্গে অভিনন্দন জানাই জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে। তিনি বাংলাদেশের বিরাজমান সংকট নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তিনি সর্বশেষে তৃতীয় দফায় তাঁর বিশেষ দূত হিসেবে রাজনীতি বিষয়ে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে পাঠিয়েছেন।

“আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, গণচীন ও জাপান সরকারসহ বিভিন্ন বন্ধু দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানাই, তারাও এ সংকট নিরসনে সমঝোতার আহবান অব্যাহত রেখেছেন। প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ ভারতের সরকার ও জনগণের প্রতিও আমার আহবান, তারাও যেন বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক জনগণের অনুভূতি, দাবি ও মনোভাবের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থানের সঙ্গে একাত্ম থাকেন 

 রাজনৈতিক সহিংসতায় ছেয়ে গেছে দেশ, এখন প্রয়োজন ২ দলের আপোষ



গত দুই সপ্তাহে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। খবর ঘাঁটলেই দেখা যায় তাদের অধিকাংশই হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মী। তারা শহীদ হয়েছেন র‍্যাব পুলিশের গুলিতে, ডিবির হেফাজতে রিমান্ডের নামে প্রাণঘাতী নির্যাতনে, সংঘবদ্ধ ভাবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আক্রমণে।
 
 তার উপর সরকারী কার্যালয়, কর্মকর্তা ও বিচারকদের অফিস ও বাড়ি এবং সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার একাধিক ঘটনায় আ'লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এসেছে আওয়ামী পন্থী মিডিয়ার অনুসন্ধানেই।
 
 এই পরিস্থিতিতে চলমান সহিংসতার জন্য যারা ঢালাও ভাবে বড় দুই দলকে দায়ী করে, আওয়ামী লীগের পিঠ বাঁচাতে উদগ্রীব কিছু দুশ্চরিত্র দালাল ছাড়া তাদের আর কোন পরিচয় নেই। এই দালালরা গণমাধ্যম কর্মী, বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজ, পেশাজীবি এমনকি ব্যবসায়ী নেতার মলাট লাগিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।


তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। রাজনৈতিক কর্মীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। নাস্তিকদের পেলে পুষে জাতিকে বিভক্ত করেছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। হিসেব ছাড়া আলেম হত্যা করে জাতিকে অভিশপ্ত করেছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। অতএব বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যারা ঢালাও ভাবে দু'জনকে দায়ী করে, আওয়ামী লীগের পিঠ বাঁচাতে উদগ্রীব দুশ্চরিত্র দালাল ছাড়া তাদের আর কোন পরিচয় নেই। দেশব্যাপী বাকশাল নির্মূল অভিযান শুরু হলে এরাও ছাড়া পাবে না।



 

শেখ হাসিনা নিজের মুখেই স্বীকার করলেন নির্বাচনে মহাজোটের শরিকদের সাথে আঁতাত করে আসন ভাগাভাগির কথা।  

নিজেরা নিজেরা আসন ভাগবাটোয়ারা করে কিভাবে নিজেদের শরিকদের একে অপরকে ছেড়ে দিয়েছে আসন আর এভাবেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেড়শতাধিক আসনে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী বাকশালী গোষ্ঠী তা স্বীকার করে নিলেন বাকশালীদের প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা।



গত দুই সপ্তাহে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। খবর ঘাঁটলেই দেখা যায় তাদের অধিকাংশই হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মী। তারা শহীদ হয়েছেন র‍্যাব পুলিশের গুলিতে, ডিবির হেফাজতে রিমান্ডের নামে প্রাণঘাতী নির্যাতনে, সংঘবদ্ধ ভাবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আক্রমণে।

তার উপর সরকারী কার্যালয়, কর্মকর্তা ও বিচারকদের অফিস ও বাড়ি এবং সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার একাধিক ঘটনায় আ'লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এসেছে আওয়ামী পন্থী মিডিয়ার অনুসন্ধানেই।

এই পরিস্থিতিতে চলমান সহিংসতার জন্য যারা ঢালাও ভাবে বড় দুই দলকে দায়ী করে, আওয়ামী লীগের পিঠ বাঁচাতে উদগ্রীব কিছু দুশ্চরিত্র দালাল ছাড়া তাদের আর কোন পরিচয় নেই। এই দালালরা গণমাধ্যম কর্মী, বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজ, পেশাজীবি এমনকি ব্যবসায়ী নেতার মলাট লাগিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। রাজনৈতিক কর্মীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। নাস্তিকদের পেলে পুষে জাতিকে বিভক্ত করেছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। হিসেব ছাড়া আলেম হত্যা করে জাতিকে অভিশপ্ত করেছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নন। অতএব বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যারা ঢালাও ভাবে দু'জনকে দায়ী করে, আওয়ামী লীগের পিঠ বাঁচাতে উদগ্রীব দুশ্চরিত্র দালাল ছাড়া তাদের আর কোন পরিচয় নেই। দেশব্যাপী বাকশাল নির্মূল অভিযান শুরু হলে এরাও ছাড়া পাবে না।





“আমাদের আহবান ও দেশবাসীর আকুতিতে সাড়া না দিলেও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের মধ্যস্থতায় সরকারী দল আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় দেশবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমি আশা করি, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশাকে তারা বিবেচনায় নেবেন এবং একগুঁয়েমি প্রত্যাহার করে শান্তি ও সমঝোতার পথে এগুবেন।

“সমঝোতার পথ প্রশস্ত করার জন্য সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা খুবই অপরিহার্য। কিন্তু দু:খের বিষয়, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের এখনো মুক্তি দেয়া হয়নি, প্রত্যাহার করা হয়নি মিথ্যা মামলা। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন এখনো প্রহসনের নির্বাচনের তফশীল স্থগিত করেনি। বিরোধী দলের অবরুদ্ধ অফিস ও বন্ধ সংবাদ-মাধ্যমগুলো এখনো খুলে দেয়া হয়নি। এখনো শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। এখনো আন্দোলনকারীদের প্রাণসংহার ও রক্ত ঝরানো বন্ধ হয়নি। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করে সংলাপ ও সমঝোতার পথ প্রশস্ত করার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

“দেশবাসীকে আমি বলবো, জনগণের দাবিকে পাশ কাটাতে সরকার উস্কানি, অন্তর্ঘাত, নাশকতা ও অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ওপর হামলা, আলেম সমাজের ওপর নিপীড়ন এবং নিরপরাধ মানুষকে অন্তর্ঘাতের মাধ্যমে হত্যা করে পরিস্থিতির মোড় ঘুরাবার অপচেষ্টা তারা বারবার করছে। এ ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। হঠকারিতার আশ্রয় নিয়ে উস্কানিমূলক বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের উদ্দেশ্য নিয়েও তারা অপপ্রচার করছে। অতীতেও এভাবে গণআন্দোলনকে বিপথগামী করার অপচেষ্টা সফল হয়নি। বর্তমান সরকারও সফল হতে পারবেনা ইনশাল্লাহ।

“আজ লক্ষ্মীপুরে যাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা ইতোমধ্যে আত্মাহুতি দিয়েছেন আমি সেই সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানাচ্ছি। আহত ও নির্যাতিত হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি জানাচ্ছি আমার আন্তরিক সহমর্মিতা। অন্তর্ঘাতে যেসব নিরপরাধ নাগরিক প্রাণ দিয়েছেন, অসহ্য যন্ত্রণা সয়ে এখনো যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের জন্য আবারো গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

“সংকট থেকে দেশ-জাতির মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের সুরক্ষা এবং শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা আন্দোলন করছি। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের  অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ও জনগণের পছন্দসই একটি সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এ সংগ্রাম তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে। আমি শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন সকল দেশবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করি।”





 

Monday, December 16, 2013


Mini Tips

৫টি ঘরোয়া নিরাময়

১. হাসতে গিয়েও হাসতে পারছেন না? একটু সরিষার তেল এবং লবন মিশিয়ে দাঁতে লাগান, দাঁত হবে ঝকঝকে সাদা আর মজবুত।
২. নিজেকে কিছুটা স্বাধীনতা দিন! খালি পায়ে দৌঁড়াতে ভাল লাগে? এটি আপনার পা কে শক্তিশালী এবং সচল করে।
৩. জ্বর হলে বেশি করে পানীয় এবং ফলের রস যেমন, বেদানা বা কমলার রস খান।
৪. খাওয়ায় অরুচি ও ক্ষুধা মন্দা হলে ১-৩ গ্রাম আদা খোসা ছাড়িয়ে মিহি করে কুচিয়ে নিন এবং তার সাথে লবন এবং কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন একবার করে ৭-৮ দিন খান।
৫. মধু খাওয়ায় সতর্কতা। নিম্নলিখিত খাবারের সাথে মধু খাওয়া যাবে না।
ক) মধুর সাথে কোন গরম খাবার।
খ) সমান মাত্রায় মধু এবং ঘি।
গ) মধু ও ঘোল।
ঘ) মধু ও খিচুরী।



ত্বকের যত্নে বেসন

বেসন কি ? ছোলার ডাল গুড়ো করে বেসন তৈরি করা হয় । হাতের কাছের যে কোন দোকানে চাইলে পাবেন রেডিমেট বেসন । আজ আমি আমার লেখায় তুলে ধরবো বেসনের ব্যবহার । বেসন দিয়ে কিভাবে নিতে পারেন ত্বকের যত্ন এবং এর উপকারিতাই বা কি আর বেসন ব্যবহারে কি ধরনের সাবধানতা মেনে চলা উচিত সেই সব নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব । আশাকরি সবার কাজে আসবে।

ব্যবহার পদ্ধতি :   

১) বেসন ২ চা চামচ + পরিমাণমত পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। শুকানোর পর ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের তৈলাক্ত ( তেলতেলে ) ভাবটা কমে যাবে। উজ্বলতা  বাড়বে। এটি সপ্তাহে ৪ দিন করতে পারবেন।

২)  বেসন ১ কাপ + হলুদের গুড়ো আধা চা চামচ + (লেবুর রস ২ চা চামচ + সামান্য মধু ) + প্রয়োজন মত পানি সবগুলো উপাদান ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট এর মত করে নিন। এবার এই মিশ্রণটি পুরো শরীরে লাগান । একটু শুকিয়ে তারপর ধুয়ে ফেলুন । এতে শরীরে ত্বক হবে মসৃণ এবং উজ্জ্বল ।


এক গ্লাস পানির উপকারিতা

১. এক গ্লাস পানি ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে যদি আপনি পান করেন, তবে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়ে যায়।
২. এক গ্লাস পানি যদি আপনি খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পান করেন তবে এটা খাবার হজমে সাহায্য করবে বেশি।
৩. এক গ্লাস পানি গোসলের আগ মুহূর্তে আপনি পান করলে এটা আপনাকে উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে।
৪. এক গ্লাস পানি ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে যদি পান করেন তবে আপনাকে হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।



 
 

আপনি কি আপনার চুলের যত্ন ঠিকমত নিচ্ছেন ?


আপনে কি  জানেন  ? মানুষের  মাথায় কেন টাক পড়ে ?  
মাথায় টাক পড়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে।  চুল পড়ার পর যদি নতুন করে চুল না উঠে তবেই মাথায় টাক পড়ে যায়। চুল কিন্তু সবারই পড়ে।  কেউ বলতে পারবে না যে 'আমার চুল পড়ে না', চুল পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চুল পড়ার পর নতুন করে চুল না গজানোটাই অস্বাভাবিক।  চুল সবারই পরে এবং আবার নতুন করে চুল গজায়।  কিন্তু যাদের চুল পড়ে যাওয়ার পর আবার নতুন করে চুল না গজায় তাদেরই সাধারণত মাথায় টাক পড়ে যায়। আর এই নতুন চুল না গজানোর অনেকগুলো কারণ আছে। সাধারণত প্রথম কারণটা হলো : বংশগত কারণ যার কোনো ট্রিটমেন্ট বা উপশম নেই। এছাড়া আরো কিছু কারণ আছে যেমন :

১. মাথায় খুব বেশি পরিমাণে উকুন থাকলে তা মাথার চুলের গোড়ার সমস্ত পুষ্টি এবং ভিটামিন ধ্বংস  করে দেয় যা চুলের বেড়ে উঠার জন্য  এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখার জন্য অপরিহার্য। তাই আপনার মাথায় যদি অধিক পরিমানে উকুনের উপস্থিতি আপনি লক্ষ্য করে থাকেন তাহলে আর দেরী না করে এক্ষনি তা উপশম করার চেষ্টা করুন।  সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ২/১ বার মাথার সব চুল চেছে ফেলেন এবং প্রয়োজনে আরো বেশি পরিমানে মাথা র চুল চাছতে পারেন।  এতে করে আপনার মাথার উকুনের বংশ নির্বংশ হয়ে যেতে পারে। আর তাও যদি না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে বিশেষ কোনো উকুন নাশক শ্যাম্পু আপনার মাথায় ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ইংলিশ উকুন নাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

২. আরেকটি কারণ হচ্ছে মাথায় খুব বেশি পরিমানে খুশকি থাকা।  খুশকি বেশি পরিমানে মাথায় থাকলে তা মাথার চান্দি তে জমাট বেধে থাকে যার ফলে খুশকির আস্তরণ জমে যায় ফলে নতুন চুল গজানোর রাস্তা না পেয়ে ওই জায়গা টা চুল শূন্য হয়ে যায়।  ফলে ওই জায়গা টাতে আর কখনই নতুন চুল জন্মায় না। তাই এর উপশম করা খুবই জরুরী হয়ে পড়ে।  খুশকির উপশম করাটা খুবই কষ্ট সাধ্য একটা ব্যাপার।  বার বার মাথার চুল চা ছার্  পর ও আবার নতুন করে এটি বিস্তার করে। তাই খুশকির উপশম করার জন্য skin specialist কোনো ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হউন।

আমরা সবাই চাই চুলের বিশেষ যত্ন নিতে। চুল কে শক্ত মজবুত ও চুলের গ্রোথের জন্য তেল অত্যন্ত উপকারী উপাদান। তেল হচ্ছে চুলের উজ্জল্যতার প্রাণ। কিন্তু সাধারণ তেলের সাথে যদি কিছু উপাদান যোগ করি তাহলে তা চুলের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি হেয়ার টনিকে পরিণত হয়। তেলকে প্রোটিনযুক্ত করার জন্য হেয়ার প্রোটিন প্যাক তৈরী করতে হবে। আর এর জন্য প্রথমে সংগ্রহ করতে হবে কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান। 

 প্রয়োজনীয় উপাদান :


১। আমলকি ৫,৬ টি
২। মেথি ১ চামচ(গুড়া বা আস্ত)
৩। জবাফুল ৩ টি
৪। ই-ক্যাপসুল (সফ্‌ট জেল) ২টি
৫। নারকেল তেল (এক কৌটা)

 

প্যাক তৈরির নিয়ম—

একটি পাত্রে নারকেল তেল, আমলকি, মেথি, জবা ফুল, ই-ক্যাপসুল অর্থাৎ উপরক্ত সকল উপাদান নিয়ে ৩০ মিনিট অল্প আঁচে একসাথে গরম করতে হবে। এরপর গরম করা তেল ছেকে নিয়ে কোন সুবিধাজনক কৌটাতে সংরক্ষণ করতে হবে।



চুলের উঁকুন দূর করুন প্রাকৃতিক উপায়ে

 

অনেকের চুলে খুশকী নেই, চুলও সুন্দর তবুও সারাক্ষণ মাথা চুলকায়। যারা উঁকুনের সমস্যায় ভূগছেন তারা এতক্ষণে নিশ্চই বুঝে গেছেন। এই নিয়ে যারা অতিষ্ট প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই উঁকুনের বংশ নির্বংশ করে দিতে পারেন। আসুন জেনে নিই কিভাবে। উঁকুন থেকে মুক্তি পেতে হলে নিচের প্যাকটি ব্যবহার করুন।


 প্রয়োজনীয় উপাদান :

২ চামচ নারকেলের দুধ
২ চামচ পাতিলেবুর রস
২ চামচ নিমপাতা বাঁটা
 
উপরোক্ত উপাদানগুলো ভালভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। প্রয়োজনে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে পারন। এই পেস্টটি ভাল করে চুলে মেখে প্রয় ৪০ মিনিটের মতো রাখুন। এবার চুলে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলে কন্ডিশনার লাগান। ব্যস পেয়ে যাবেন উঁকুন মুক্ত সুন্দর চুল। যাদের চুলে উঁকুনের প্রাদুর্ভাব বেশি তারা ১০-১৫ দিন পরপর এই প্যাকটি ব্যবহার করলে উঁকুন থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।




চুল পড়া রোধে ২০টি টিপস্ !



১. খাবারে লবণ কম খাবেন। লবণ মাথার ত্বকের কোষে পানি জমে থাকতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকের কোষে পানি জমে থাকলে চুলের গোড়া নরম হয়ে অধিক চুল পড়তে সাহায্য করে।

২. ওজন বা মেদ কমানোর জন্য অনেকে হঠাৎ খাওয়া-দাওয়া, একেবারেই ছেড়ে দেয়। এই হঠাৎ খাওয়া কমানোতেও চুল পড়ে। এ ক্ষেত্রে নিউট্রশনিষ্ট কিংবা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।
 

৩. গরীব-মধ্যবিত্তের চুলের সহায়ক খাবার হচ্ছে সবুজ শাক-সবজি। সবুজ শাক-সবজির মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস বা পুষ্টি উপাদান চুলের জন্য খুব উপকারী। প্রচুর পরিমাণে আয়রণযুক্ত শাক যেমন, লাল শাক, কচুশাক খেতে হবে। তবে সামর্থবানরা আঙ্গুরের রস (গ্রেপ ফ্রুইট ককটেল), আলু, বাঁধাকপি, মিক্সড সালাদ, কলা, মুরগির মাংস, ডিম খেতে পারেন।
 

৪. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি যেমন- নাশপাতি, বাদাম, গম, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সবজি, ডিম প্রভৃতি ও জলপাই তেল খাবেন।
 

৫. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শুধু যে চুল শক্ত করে তা নয়, চুল গজাতেও সহায়তা করে। প্রেটিনের অভাবে চুলের রঙ প্রথমে নষ্ট হয়ে যায়। চুল লালচে বাদামি হতে থাকে। পরে চুল ঝরে যায় এবং চুলের আগা ফাটতে থাকে। কেরাটিনের অভাবে চুল ফেটে যায়। খাদ্য তালিকায় মাছ, গোশত, ডিম, দুধ, ডাল, দই, পনির ইত্যাদি থাকা জরুরি।
 

৬. অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- আইসক্রিম, পেস্ট্রি কেক, লবণ, ফাস্টফুড, জাংক ফুড, চিনি, পশুর চর্বি, বাটার, ক্রিম, অধিক চর্বিযুক্ত চিজ, হুয়াইট ব্রেড ও ময়দা, ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকলেট এবং হোল মিল্ক, কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস ইত্যাদি পরিহার করুন। অতিরিক্ত চা বা কফি পান করবেন না। চা বা কফিতে ক্যাফেইন থাকে যা সকল প্রকার চুল ও স্কিনের সমস্যার জন্য দায়ী।
 

৭. ওমেগা- থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড চুল পড়া রোধে খুব কার্যকর। প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড তিসির তেলে পাওয়া যায়। প্রতিদিন ২ চা চামচ তিসির তেল সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।
 

৮. নতুন চুল গজাতে প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট ১০-১৫ মিনিট চুলের ম্যাসাজ করুন। কোকোনাট কিংবা এলমন্ড অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। তেল চুল গজাতে বা চুলে পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে না। তবে তেল ম্যাসাজ করলে স্ক্যালেন্ড রক্ত সঞ্চালন হয় এবং চুল বাহ্যিকভাবে চকচকে, মসৃণ হয়।
 

৯. চুলে অপ্রয়োজনীয় ঘষা-মাঝা, অতিরিক্ত আচরানো পরিহার করুন। অনেকে চুল খুব ঘন ঘন আঁচড়ান। এটা ঠিক নয়। খুব বেশি চুল আঁচড়ানোর ফলে সেবাশিয়াস গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে উঠলে চুল পড়ে। আবার চুল না আঁচড়ানোও ঠিক নয়। নিন্মমানের চিরুনি বা ব্রাশ ব্যবহার এবং সঠিকভাবে চুল না আঁচড়ানোর জন্যও চুল পড়ে।
 

১০. গরম পানি, ড্রায়ার বা এমন কিছু ব্যবহার করবেন না যা চুলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। জেল, মুজ, হেয়ার ডাই­ এসব চুলের ক্ষতি করে। দীর্ঘ সময় হেলমেট, টুপি ইত্যাদি পড়ে থাকবেন না। মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার প্রয়োজন না হলে করবেন না।
 

১১. চুলের সঠিক যত্ন সম্পর্কে না জানার কারণেও অনেকের চুল পড়ে। প্রচলিত একটি ধারণা আছে, রাতে শোয়ার আগে টান টান করে বেণী বেঁধে ঘুমালে চুল তাড়াতাড়ি লম্বা হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এতে চুল ঝরে পড়ে দ্রুত। ভেজা চুল কখনো আঁচড়াবেন না। তোয়ালে দিয়েও খুব ঘষে চুল মুছলে চুলের ক্ষতি হয়। ভিজা চুল কখনো বাঁধবেন না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বজ্রাসনে বসে চুল আঁচড়াবেন। এতে চুল পড়া বন্ধ হবে এবং আপনি মানসিক চাপমুক্ত হয়ে ঘুমাতেও পারবেন।
 

১২. প্রতিদিন ১৬-২০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমরা সচেতন নই।
 

১৩. যারা প্রতিদিন ঘরের বাইরে বের হন তাদের এক-দুই দিন অন্তর চুল শ্যাম্পু করা প্রয়োজন। চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। বিজ্ঞাপনের চটকে ভুলে ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না।
 

১৪. হিন্দি শব্দ চ্যাম্পু থেকে শ্যাম্পু এসেছে। এর অর্থ মালিশ বা ম্যাসাজ। এর মানে বোঝা যায় শ্যাম্পু করার সময় আপনার মাথা ম্যাসাজ বা ঘষতে হবে। খুশকির জন্য এ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। তবে দীর্ঘদিন এ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহারে চুল রুক্ষ হয়।
 

১৫. খুশকি দূরীকরণে চুল ধুয়ে তাতে কিটোকোনাজল ২% শ্যাম্পু বা ড্যানসেল শ্যম্পু হাতে ঢেলে নিন এবং দু’হাতে ঘষে নিয়ে তারপর পুরো মাথায় লাগান। ভালভাবে লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু লাগান। এরপর চুল ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করে ২-৪ সপ্তাহ ব্যবহারে খুশকি কমে যাবে।
 

১৬. চুল পড়া রোধের জন্য বাজারে মিনোক্সিডিল নামের ওষুধ পাওয়া যায়। এটি যেখান থেকে চুল পড়ছে সেখানে লাগাতে হবে। এটি নারী ও পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করতে পারেন। এতে কাজ না হলে অন্য চিকিৎসা নিতে হবে। অন্য চিকিৎসার মধ্যে আছে লেজার থেরাপি এলএইচটি, হেয়ার ফলিকল রিপ্লেসমেন্ট, হেয়ার স্কাল্প রিপ্লেসমেন্ট ইত্যাদি।
 

১৭. এছাড়া অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল চুল পড়ার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন, কেননা ঘুম ও বিশ্রাম নতুন চুল গজানো ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
 

১৮. ধুমপান ত্যাগ করুন। ধুমপানের কারণে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, রক্ত নালিকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুল পড়ে।
 

১৯. প্রতিদিন একটু করে ব্যায়ম করলে শরীর ফিট থাকার পাশাপাশি রক্ত সরবরাহ ঠিক থাকে। যার ফলে চুলও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় না।
 
২০. কিছু ব্যক্তিগত কারণ যেমন হরমোনের তারতম্য, খারাপ স্বাস্থ্য, বিশ্রামের অভাব ইত্যাদির প্রভাবও চুলের ওপর পড়তে পারে। টেনশন, মানসিক যন্ত্রণা ঘুম না হওয়া। সুষম আহার, চুলের সঠিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজনে কিছু ওষুধের ব্যবহারে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।



খুশকি দূর করতে লেবুর খোসা


লেবুর খোসায় রয়েছে আলফা ও বিটা ক্যারোটিন ও লুটেইন। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমূহ মাথার ত্বক থেকে খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।

পদ্ধতিঃ

৩/৪ টি লেবুর খোসা ছাড়িয়ে নিন। খোসাগুলো ৪-৫ কাপ পানিতে ২০-২৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে চুল ধোয়ায় ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার মিশ্রণটি দিয়ে চুল ধুয়ে দেখুন। ফল পাবেন।