Monday, December 16, 2013

 

আপনি কি আপনার চুলের যত্ন ঠিকমত নিচ্ছেন ?


আপনে কি  জানেন  ? মানুষের  মাথায় কেন টাক পড়ে ?  
মাথায় টাক পড়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে।  চুল পড়ার পর যদি নতুন করে চুল না উঠে তবেই মাথায় টাক পড়ে যায়। চুল কিন্তু সবারই পড়ে।  কেউ বলতে পারবে না যে 'আমার চুল পড়ে না', চুল পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চুল পড়ার পর নতুন করে চুল না গজানোটাই অস্বাভাবিক।  চুল সবারই পরে এবং আবার নতুন করে চুল গজায়।  কিন্তু যাদের চুল পড়ে যাওয়ার পর আবার নতুন করে চুল না গজায় তাদেরই সাধারণত মাথায় টাক পড়ে যায়। আর এই নতুন চুল না গজানোর অনেকগুলো কারণ আছে। সাধারণত প্রথম কারণটা হলো : বংশগত কারণ যার কোনো ট্রিটমেন্ট বা উপশম নেই। এছাড়া আরো কিছু কারণ আছে যেমন :

১. মাথায় খুব বেশি পরিমাণে উকুন থাকলে তা মাথার চুলের গোড়ার সমস্ত পুষ্টি এবং ভিটামিন ধ্বংস  করে দেয় যা চুলের বেড়ে উঠার জন্য  এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখার জন্য অপরিহার্য। তাই আপনার মাথায় যদি অধিক পরিমানে উকুনের উপস্থিতি আপনি লক্ষ্য করে থাকেন তাহলে আর দেরী না করে এক্ষনি তা উপশম করার চেষ্টা করুন।  সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ২/১ বার মাথার সব চুল চেছে ফেলেন এবং প্রয়োজনে আরো বেশি পরিমানে মাথা র চুল চাছতে পারেন।  এতে করে আপনার মাথার উকুনের বংশ নির্বংশ হয়ে যেতে পারে। আর তাও যদি না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে বিশেষ কোনো উকুন নাশক শ্যাম্পু আপনার মাথায় ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ইংলিশ উকুন নাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

২. আরেকটি কারণ হচ্ছে মাথায় খুব বেশি পরিমানে খুশকি থাকা।  খুশকি বেশি পরিমানে মাথায় থাকলে তা মাথার চান্দি তে জমাট বেধে থাকে যার ফলে খুশকির আস্তরণ জমে যায় ফলে নতুন চুল গজানোর রাস্তা না পেয়ে ওই জায়গা টা চুল শূন্য হয়ে যায়।  ফলে ওই জায়গা টাতে আর কখনই নতুন চুল জন্মায় না। তাই এর উপশম করা খুবই জরুরী হয়ে পড়ে।  খুশকির উপশম করাটা খুবই কষ্ট সাধ্য একটা ব্যাপার।  বার বার মাথার চুল চা ছার্  পর ও আবার নতুন করে এটি বিস্তার করে। তাই খুশকির উপশম করার জন্য skin specialist কোনো ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হউন।

আমরা সবাই চাই চুলের বিশেষ যত্ন নিতে। চুল কে শক্ত মজবুত ও চুলের গ্রোথের জন্য তেল অত্যন্ত উপকারী উপাদান। তেল হচ্ছে চুলের উজ্জল্যতার প্রাণ। কিন্তু সাধারণ তেলের সাথে যদি কিছু উপাদান যোগ করি তাহলে তা চুলের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি হেয়ার টনিকে পরিণত হয়। তেলকে প্রোটিনযুক্ত করার জন্য হেয়ার প্রোটিন প্যাক তৈরী করতে হবে। আর এর জন্য প্রথমে সংগ্রহ করতে হবে কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান। 

 প্রয়োজনীয় উপাদান :


১। আমলকি ৫,৬ টি
২। মেথি ১ চামচ(গুড়া বা আস্ত)
৩। জবাফুল ৩ টি
৪। ই-ক্যাপসুল (সফ্‌ট জেল) ২টি
৫। নারকেল তেল (এক কৌটা)

 

প্যাক তৈরির নিয়ম—

একটি পাত্রে নারকেল তেল, আমলকি, মেথি, জবা ফুল, ই-ক্যাপসুল অর্থাৎ উপরক্ত সকল উপাদান নিয়ে ৩০ মিনিট অল্প আঁচে একসাথে গরম করতে হবে। এরপর গরম করা তেল ছেকে নিয়ে কোন সুবিধাজনক কৌটাতে সংরক্ষণ করতে হবে।



চুলের উঁকুন দূর করুন প্রাকৃতিক উপায়ে

 

অনেকের চুলে খুশকী নেই, চুলও সুন্দর তবুও সারাক্ষণ মাথা চুলকায়। যারা উঁকুনের সমস্যায় ভূগছেন তারা এতক্ষণে নিশ্চই বুঝে গেছেন। এই নিয়ে যারা অতিষ্ট প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই উঁকুনের বংশ নির্বংশ করে দিতে পারেন। আসুন জেনে নিই কিভাবে। উঁকুন থেকে মুক্তি পেতে হলে নিচের প্যাকটি ব্যবহার করুন।


 প্রয়োজনীয় উপাদান :

২ চামচ নারকেলের দুধ
২ চামচ পাতিলেবুর রস
২ চামচ নিমপাতা বাঁটা
 
উপরোক্ত উপাদানগুলো ভালভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। প্রয়োজনে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে পারন। এই পেস্টটি ভাল করে চুলে মেখে প্রয় ৪০ মিনিটের মতো রাখুন। এবার চুলে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলে কন্ডিশনার লাগান। ব্যস পেয়ে যাবেন উঁকুন মুক্ত সুন্দর চুল। যাদের চুলে উঁকুনের প্রাদুর্ভাব বেশি তারা ১০-১৫ দিন পরপর এই প্যাকটি ব্যবহার করলে উঁকুন থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।




চুল পড়া রোধে ২০টি টিপস্ !



১. খাবারে লবণ কম খাবেন। লবণ মাথার ত্বকের কোষে পানি জমে থাকতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকের কোষে পানি জমে থাকলে চুলের গোড়া নরম হয়ে অধিক চুল পড়তে সাহায্য করে।

২. ওজন বা মেদ কমানোর জন্য অনেকে হঠাৎ খাওয়া-দাওয়া, একেবারেই ছেড়ে দেয়। এই হঠাৎ খাওয়া কমানোতেও চুল পড়ে। এ ক্ষেত্রে নিউট্রশনিষ্ট কিংবা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।
 

৩. গরীব-মধ্যবিত্তের চুলের সহায়ক খাবার হচ্ছে সবুজ শাক-সবজি। সবুজ শাক-সবজির মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস বা পুষ্টি উপাদান চুলের জন্য খুব উপকারী। প্রচুর পরিমাণে আয়রণযুক্ত শাক যেমন, লাল শাক, কচুশাক খেতে হবে। তবে সামর্থবানরা আঙ্গুরের রস (গ্রেপ ফ্রুইট ককটেল), আলু, বাঁধাকপি, মিক্সড সালাদ, কলা, মুরগির মাংস, ডিম খেতে পারেন।
 

৪. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি যেমন- নাশপাতি, বাদাম, গম, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সবজি, ডিম প্রভৃতি ও জলপাই তেল খাবেন।
 

৫. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শুধু যে চুল শক্ত করে তা নয়, চুল গজাতেও সহায়তা করে। প্রেটিনের অভাবে চুলের রঙ প্রথমে নষ্ট হয়ে যায়। চুল লালচে বাদামি হতে থাকে। পরে চুল ঝরে যায় এবং চুলের আগা ফাটতে থাকে। কেরাটিনের অভাবে চুল ফেটে যায়। খাদ্য তালিকায় মাছ, গোশত, ডিম, দুধ, ডাল, দই, পনির ইত্যাদি থাকা জরুরি।
 

৬. অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- আইসক্রিম, পেস্ট্রি কেক, লবণ, ফাস্টফুড, জাংক ফুড, চিনি, পশুর চর্বি, বাটার, ক্রিম, অধিক চর্বিযুক্ত চিজ, হুয়াইট ব্রেড ও ময়দা, ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকলেট এবং হোল মিল্ক, কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস ইত্যাদি পরিহার করুন। অতিরিক্ত চা বা কফি পান করবেন না। চা বা কফিতে ক্যাফেইন থাকে যা সকল প্রকার চুল ও স্কিনের সমস্যার জন্য দায়ী।
 

৭. ওমেগা- থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড চুল পড়া রোধে খুব কার্যকর। প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড তিসির তেলে পাওয়া যায়। প্রতিদিন ২ চা চামচ তিসির তেল সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।
 

৮. নতুন চুল গজাতে প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট ১০-১৫ মিনিট চুলের ম্যাসাজ করুন। কোকোনাট কিংবা এলমন্ড অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। তেল চুল গজাতে বা চুলে পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে না। তবে তেল ম্যাসাজ করলে স্ক্যালেন্ড রক্ত সঞ্চালন হয় এবং চুল বাহ্যিকভাবে চকচকে, মসৃণ হয়।
 

৯. চুলে অপ্রয়োজনীয় ঘষা-মাঝা, অতিরিক্ত আচরানো পরিহার করুন। অনেকে চুল খুব ঘন ঘন আঁচড়ান। এটা ঠিক নয়। খুব বেশি চুল আঁচড়ানোর ফলে সেবাশিয়াস গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে উঠলে চুল পড়ে। আবার চুল না আঁচড়ানোও ঠিক নয়। নিন্মমানের চিরুনি বা ব্রাশ ব্যবহার এবং সঠিকভাবে চুল না আঁচড়ানোর জন্যও চুল পড়ে।
 

১০. গরম পানি, ড্রায়ার বা এমন কিছু ব্যবহার করবেন না যা চুলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। জেল, মুজ, হেয়ার ডাই­ এসব চুলের ক্ষতি করে। দীর্ঘ সময় হেলমেট, টুপি ইত্যাদি পড়ে থাকবেন না। মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার প্রয়োজন না হলে করবেন না।
 

১১. চুলের সঠিক যত্ন সম্পর্কে না জানার কারণেও অনেকের চুল পড়ে। প্রচলিত একটি ধারণা আছে, রাতে শোয়ার আগে টান টান করে বেণী বেঁধে ঘুমালে চুল তাড়াতাড়ি লম্বা হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এতে চুল ঝরে পড়ে দ্রুত। ভেজা চুল কখনো আঁচড়াবেন না। তোয়ালে দিয়েও খুব ঘষে চুল মুছলে চুলের ক্ষতি হয়। ভিজা চুল কখনো বাঁধবেন না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বজ্রাসনে বসে চুল আঁচড়াবেন। এতে চুল পড়া বন্ধ হবে এবং আপনি মানসিক চাপমুক্ত হয়ে ঘুমাতেও পারবেন।
 

১২. প্রতিদিন ১৬-২০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমরা সচেতন নই।
 

১৩. যারা প্রতিদিন ঘরের বাইরে বের হন তাদের এক-দুই দিন অন্তর চুল শ্যাম্পু করা প্রয়োজন। চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। বিজ্ঞাপনের চটকে ভুলে ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না।
 

১৪. হিন্দি শব্দ চ্যাম্পু থেকে শ্যাম্পু এসেছে। এর অর্থ মালিশ বা ম্যাসাজ। এর মানে বোঝা যায় শ্যাম্পু করার সময় আপনার মাথা ম্যাসাজ বা ঘষতে হবে। খুশকির জন্য এ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। তবে দীর্ঘদিন এ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহারে চুল রুক্ষ হয়।
 

১৫. খুশকি দূরীকরণে চুল ধুয়ে তাতে কিটোকোনাজল ২% শ্যাম্পু বা ড্যানসেল শ্যম্পু হাতে ঢেলে নিন এবং দু’হাতে ঘষে নিয়ে তারপর পুরো মাথায় লাগান। ভালভাবে লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু লাগান। এরপর চুল ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করে ২-৪ সপ্তাহ ব্যবহারে খুশকি কমে যাবে।
 

১৬. চুল পড়া রোধের জন্য বাজারে মিনোক্সিডিল নামের ওষুধ পাওয়া যায়। এটি যেখান থেকে চুল পড়ছে সেখানে লাগাতে হবে। এটি নারী ও পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করতে পারেন। এতে কাজ না হলে অন্য চিকিৎসা নিতে হবে। অন্য চিকিৎসার মধ্যে আছে লেজার থেরাপি এলএইচটি, হেয়ার ফলিকল রিপ্লেসমেন্ট, হেয়ার স্কাল্প রিপ্লেসমেন্ট ইত্যাদি।
 

১৭. এছাড়া অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল চুল পড়ার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন, কেননা ঘুম ও বিশ্রাম নতুন চুল গজানো ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
 

১৮. ধুমপান ত্যাগ করুন। ধুমপানের কারণে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, রক্ত নালিকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুল পড়ে।
 

১৯. প্রতিদিন একটু করে ব্যায়ম করলে শরীর ফিট থাকার পাশাপাশি রক্ত সরবরাহ ঠিক থাকে। যার ফলে চুলও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় না।
 
২০. কিছু ব্যক্তিগত কারণ যেমন হরমোনের তারতম্য, খারাপ স্বাস্থ্য, বিশ্রামের অভাব ইত্যাদির প্রভাবও চুলের ওপর পড়তে পারে। টেনশন, মানসিক যন্ত্রণা ঘুম না হওয়া। সুষম আহার, চুলের সঠিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজনে কিছু ওষুধের ব্যবহারে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।



খুশকি দূর করতে লেবুর খোসা


লেবুর খোসায় রয়েছে আলফা ও বিটা ক্যারোটিন ও লুটেইন। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমূহ মাথার ত্বক থেকে খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।

পদ্ধতিঃ

৩/৪ টি লেবুর খোসা ছাড়িয়ে নিন। খোসাগুলো ৪-৫ কাপ পানিতে ২০-২৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে চুল ধোয়ায় ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার মিশ্রণটি দিয়ে চুল ধুয়ে দেখুন। ফল পাবেন।











No comments:

Post a Comment