Tuesday, December 17, 2013

আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা

নীচের খবর গুলো মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন। বুঝতে পারবেন কাদের হাতে ঘটছে বাসে অগ্নি সংযোগ, কক্টেল নিক্ষেপ এবং নিরিহ মানুষ হত্যা। পড়ার সময় বাসের নামটি খেয়াল করুনঃ

*** ১৩ ডিসেম্বর, ২০১১- একটি বাস সার্ভিসের চালক-হেলপারের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে ইডেন কলেজের ছাত্রীরা দেড় ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী জানান, সকালে একটি বাসের শ্রমিকরা ছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এ জন্য ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে। আমি তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছি। পরিবহন সার্ভিসের নাম ছিল -#বিহঙ্গ#-

*** ৩ মার্চ, ২০১৩ – সেদিন জামাতের হরতাল ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে শেওড়াপাড়ায় ১টি ও মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় আল হেলাল হাসপাতালের সামনে অপর একটি ককটেলবিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দবির উদ্দিন বলেন, সদরঘাট থেকে মিরপুরগামী --#বিহঙ্গ#-- পরিবহনের বাস থেকে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

*** ৬ জুলাই, ২০১৩ - খালেদা জিয়ার সরকারি গাড়িকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংসদ ভবন এলাকায় কর্তব্যরত ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাক্ট আর্মস সেলিম খান। -#বিহঙ্গ#- পরিবহনের বাস ছিল এটি। *** ২৮ নভেম্বর, ২০১৩ – ছিল বিএনপির অবরোধ। সেদিন শাহবাগে বাসে আগুন দেয়া হয়। সাংবাদিক, আইনজীবীসহ দগ্ধ হন ১৮ জন। পরের দিন দগ্ধ যুবক নাহিদ মোড়ল (২২) মারা যান। এইখানেও সেই একই -#বিহঙ্গ#- পরিবহনের বাস। এখন প্রশ্ন হলো এই বিহঙ্গ পরিবহনের নাম কাকতালীয় ভাবে বারে বারে আসছে কেন? কেই বা এর মালিক? খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই বিহঙ্গ পরিবহনের মালিক হচ্ছেন পংকজ দেবনাথ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, তাকে আওয়ামী লীগ বরিশাল-০৪ আসন থেকে অবৈধ প্রহসনের নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

বাসের নামটি আর মালিকের নাম ও পরিচয় মনে রাখুন। আপনাকে শারলক হোমস হতে হবে না। বুঝতে পারবেন কারা, কেন, কিভাবে দেশে নৈরাজ্যের জন্ম দিচ্ছে।

এর আগে ঢাকা শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির বাসার সামনে কক্টেল ফাটানো হয়েছে। হামলাকারিদের কাউকে পুলিশ ধরেছে বলে শুনা যায়নি। কিন্তু বিএনপির বয়স্ক ৫ নেতাকে জেলে নিয়েছে পুলিশ। তারা এখনো কক্টেল মামলায় জেলেই আছেন।

নেতাদের জেলে ঢুকানোর পড়ে শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ ঘোষণা দিয়েছিলেন আরও নেতা গ্রেপ্তার হবে। উনি দাবী করেছিলেন সেই ৫ নেতাদের গ্রেপ্তারের পরেই কক্টেল হামলা নাকি কমে গেছে!!

জার্মানির রাষ্ট্রদূত মাত্র ক'দিন আগে বিএনপির সেই ৫ নেতাকে মুক্তি দেবার সরাসরি আহবান জানিয়েছেন। আহ্বান জানানোর দিন রাত্রে খোদ জার্মানির রাষ্ট্রদুতের বাসাতেই কক্টেল হামলা হয়েছে!!

উপরের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করুন। ঠাণ্ডা মাথায় পড়লে এটুক নিশ্চিত হবেন যে, দেশ বিরোধী শক্তিই ঢাকা শহরের বাসে আগুন দিচ্ছে, কক্টেল ফাটাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য একটাই। বিরোধী দলগুলোর সফল আন্দোলনকে মানুষের মনে বিতর্কিত করে তোলা। বিএনপির ন্যায্য দাবীর প্রতি সমর্থন যে কেউ দিলে, সে বিদেশী হলেও তাকে ভয় দেখানো। আর এভাবেই তারা তাদের তাবেদার হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রাখার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চাইছে।

অশুভ শক্তির কালো হাত ভেঙ্গে দিন। দেশের বিপন্ন হয়ে ওঠা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসুন।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!
শেখ হাসিনা বনাম সমগ্র জাতির লড়াই
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনদিন জাতি এমন অবস্থায় দাঁড়ায়নি। কোনদিন জাতি এভাবে বিভক্ত হয়নি। আজ পুরো দেশ, পুরো জাতির সাথে একজন ব্যাক্তির লড়াই। 
"একজন ব্যাক্তির জন্যে, কোন রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা মতবিরোধের জন্যে নয়। একজন ব্যাক্তি ক্ষমতায় থাকবেন এইজন্যে দেশের এই দুরবস্থা।

... এর আগে যতগুলো সরকার ছিল এমনকি শেখ হাসিনার আগের সরকারের সময়ও জাতি এভাবে বিভক্ত হয়নি। আজকে জাতি বিভক্ত হয়নি। ব্যাক্তি বনাম জাতি- এমন হয়ে গেছে।"

- এবিএম মূসা
" কয়েকটা গালি দিল, হেফাজতকর্মী বুঝে কয়েকটা গালি দিল। এরপর কতক্ষন দাঁড় করায়া রাখে। এরপর কেউ বলতেছে জবাই কর, কেউ বলতেছে গুলি কর। কতক্ষন পরে একজন বললো গুলি করে মাইরা ফেল এইটাই ভালো হবে। এরপর যখন গুলি করবে আমি মাথা নিচু করতে নিতেই আমার কপালে গুলি লেগে মগজ পর্যন্ত গর্ত হয়ে গেল। "

এ. আর. (নামের সংক্ষিপ্ত রূপ)
শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞে গুলিতে অন্ধ হয়ে যাওয়া ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা  ২০১৩ সালের এক আগস্ট, Blood on the Streets : The Use of Excessive Force During Bangladesh Protests নামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তারা সর্বমোট পঁচানব্বইজনের সাক্ষাৎকার নেয়। এরা কেউ পুলিশের গুলি খেয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন, কিংবা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, কেউ পুলিশের গুলিতে নিহতের স্বজন, কেউ পুরো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, কিংবা মানবাধিকার কর্মী। এদের মধ্যে চারজন পাঁচই মে শাপলা চত্বরের অভিযানে সারাজীবনের জন্যে অন্ধ হয়ে যায়।

এখানে -এর সৌজন্যে পাঁচ মের পুলিশি হামলার শিকার তিনজনের হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে দেয়া বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ দেয়া হলো।

No comments:

Post a Comment